শনিবার, ১১ মে ২০২৪, ১১:৩৯ অপরাহ্ন

রংপুরে মীরগঞ্জে বিলুপ্তির পথে বাঁশ শিল্পের নিপুন হাতের কারিগর।

মোঃ রফিকুল ইসলাম লাবলু
  • আপডেট টাইম রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

এ পেশায় পুরুষের চেয়ে নারীদের সম্পৃক্ত বেশি মীরগঞ্জের বাঁশশিল্পের সাথে জড়িত কারিগররা। ভালবাসা ও মমতা দিয়ে নিপূণ হাতে কারুকাজের মাধ্যমে বাঁশ দিয়ে তৈরি করে থাকেন গৃহস্থালি পরিবারের পণ্য সামগ্রী। তাদের জীবন-জীবিকার হাতিয়ার হচ্ছে বাঁশ। কিন্তু কালের বিবর্তনে তাদের ভালবাসার জীবিকা বিলুপ্তি হতে চলেছে। দিন যতই যাচ্ছে ততই বাড়ছে আধুনিকতা। আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় চাহিদা হারাচ্ছে বাঁশের তৈরি শিল্প পণ্যর। একসময় বাশেঁর তৈরি শিল্প সামগ্রীর প্রচুর ব্যবহার ও চাহিদা ছিল। এখন তার স্থান দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিকের পণ্য সামগ্রী। আধুনিকতার ছোঁয়ায় পরিবেশবান্ধব বাঁশের পণ্য সামগ্রী ছেড়ে সবাই ঝুকছে সেইদিকে। সদর ইউপির মীরগঞ্জ যুগি পাড়া বাঁশ পল্লী নামে পরিচিত গ্রামটিতে গিয়ে দেখা গেছে, ওই গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার এ পেশায় জড়িত থেকে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসলেও ইতোমধ্যে অনেকে পেশা পরিবর্তন করায় এখন ১৫-২০টি সহায় সম্বলহীন পরিবারের বৃদ্ধ-বৃদ্ধা,স্বামী-স্ত্রী, কিশোরী, শিশু শিক্ষার্থীদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ভালোবাসার অস্থি মজ্জায় গৃহস্থালি পরিবারের ঢালী, কুলা, চালুন, ডালা, খাচা, শিশু কিশোরদের খেলনা হিসেবে ছোট কুলা, ফুলতোলা চালুন বুননে ব্যস্ত সময় কাটালেও জীবন পাতায় সৌখিনতার ছেঁায়া লাগেনি তাদের। বর্তমানে লজ্জা নিবারণের জন্য এক টুকরো কাপড় আর দু’মুঠো খাবারের জন্য নিরলস কাজ করছেন তারা। তাদের বেঁচে থাকা মানে দু’বেলা খেয়ে পরে থাকা। ওই গ্রামের সুভারাণী, সুমিত্রা রাণী, অমল চন্দ্র দাস জানান, প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাব, বাঁশের সংকট, ন্যায্য বাজার মূল্য, বাজারে প্লস্টিক পণ্যের সয়লাবের কারণে আমাদের বাপ-দাদার পেশার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। নানামূখী সংকটের মাঝেও বাপ দাদার পেশা ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। হাট-বাজারে বিক্রি করে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে জীবিকা নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। আর অন্য পেশায় নারীদের কারিগারি কোন জ্ঞান না থাকায় পেশা পরিবর্তনও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।বিলুপ্তিপ্রায় এ শিল্পটি অস্তিত্ব সংকটে পড়ে অনেকেই এ পেশায় ছাড়তে শুরু করেছেন। সরকারি-বেসরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে অদূর ভবিষ্যতে এ পেশা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই এই শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে হলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কারিগরি জ্ঞান বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা একান্তপ্রযোজন বলে মনে করেন এলাকা বাসি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © Matrijagat TV
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
matv2425802581