শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০২:১১ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জের শাল্লায় দুর্নীতি ঢাকতে পাউবোর ১৫ লাখ টাকার পিআইসি উপহার।

Md Tamim স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের প্রকল্প গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও অনুমোদনে চরম দুর্নীতি ও অনিয়ম ধরা পরেছে। প্রকল্প গ্রহণের ধাপে ধাপে দুর্নীতির কারণে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নিজেদের দুর্নীতির ঢাকতে অলিখিত ভাবে কয়েকজন আজ্ঞাবহ সাংবাদিক নিয়োগ করে রেখেছেন, যেন তাদের সাফাই গান।ভাঙা বিল হাওর উপ- প্রকল্পে ১৫ লাখ ৮ হাজার টাকার একটি প্রকল্প উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে গোটা শাল্লা উপজেলায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফসল রক্ষা বাঁধের প্রকল্প কাজে নিয়োজিত আছেন উপজেলা কাবিটা মনিটরিং ও বাস্তবায়ন কমিটি। এতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসেন ও সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাল্লা উপজেলা কর্মরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম।৫ সদস্যদের নিয়ে এই কমিটিতে অন্যরা আছেন নাম সর্বস্ব। সকল সিদ্ধান্ত নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী এই দুজনেই। গণশুনানির মাধ্যমে ফসল রক্ষা বাঁধের প্রকল্প কাজে প্রকৃত কৃষকদের কমিটিতে রাখার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও সেটা করেননি তাদের কেউ।তাই নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ, অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হয়নি বলে কৃষকদের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, উপজেলা কমিটি দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্হাপনা ও নীতিমালা বিরুধী প্রকল্প গ্রহণ করায় স্হানীয় সাংবাদিক বিপ্লব রায়, শান্তকুমার দাস,আনিসুল হক মুন সহ তাদের বলয়ের কয়েকজন সাংবাদিক অনিয়ম নিয়ে সংবাদ তৈরির হোমকি দেন।তাদের মুখ বন্ধ রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম সুকৌশলে এই সাংবাদিকদের ১৫ লাখ ৮ হাজার টাকার একটি প্রকল্প উপহার হিসেবে দান করেন। এই প্রকল্পে বিপ্লব রায় সভাপতি ও সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান শান্তকুমার দাস। তবে চতুর বিপ্লব রায় তার বদলে প্রকল্পে তার বাবা বরেন্দ্র রায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।কমিটির অন্য সদস্য হলেন, সাংবাদিক আনিসুল হক মুন।তিনি সিলেটে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত থাকলেও তার বলয়কে খুশি রাখতে তাকেও প্রকল্প কাজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পে ৫ জন সদস্য থাকার কথা থাকলেও একটি নাম খালি রাখা হয়েছে। এখানে সাংবাদিক বকুল তালুকদারকে সদস্য করা হবে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। সাংবাদিক বিপ্লব রায় সুনামগঞ্জ জেলা থেকে অনিয়মিত ভাবে প্রকাশিত হিজল করচ নামের একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।আনিসুল হক মুন সিলেটের দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার প্রতিনিধি। শান্তকুমার দাস বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে থাকেন। কৃষক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি নিয়ে কোন পত্রিকায় কিছু প্রকাশিত হলে প্রকল্প উপহার পাওয়া এই সাংবাদিকরা পাউবোর পক্ষে সাফাই গান এমনকি নির্লজ্জ ভাবে তাদের প্রশংসা ও প্রচারণা চালিয়ে যান।এভাবেই তারা পাউবোর দুর্নীতি ও অনিয়ম আড়াল করতে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলেন,১৩ নং পি আই সি প্রকল্প উপহার হিসেবে পাওয়া সাংবাদিকরা অতীতেও প্রশাসনের দুর্নীতি ঢাকতে অপসংবাদ করেছেন।তারা স্হানীয় কোন সাংবাদিক কর্তৃক দুর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করলেই তারা সংঘবদ্ধ হয়ে দুর্নীতির পক্ষে সাফাই গান। এভাবে জোটবদ্ধ হয়ে তারা স্বার্থ হাসিলের জন্য এসব অপকর্ম করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম বলেন,সাংবাদিকদের প্রকল্প প্রদানের নিশ্চিত করে বলেন,প্রকল্প গ্রহণে কোনো অনিয়ম হয়নি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসেন বলেন,প্রকল্প গ্রহণের কাজে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে ব্যবস্হা নেওয়া হবে। ( ১৩ নং প্রকল্পের কাগজ সংযুক্ত

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
টিভি চ্যানেল
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
matv2425802581