মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভূক্ত ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন

মোঃ রেজাউল করিম খান ‌
  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০২২

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভূক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভর্তি পরীক্ষা-২০২২ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন-১ এর লেকচার থিয়েটারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য প্রফেসর ড. মো. শাহ আজম বলেন, গতবছর থেকে বাংলাদেশে একটি নতুন রীতি চালু হয়েছে, ২০ টি বিশ্ববিদ্যালয় একত্রে গুচ্ছভিত্তিক সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বয়ে গুচ্ছভিত্তিক সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করে আসছে, গত বছরও আমরা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এই ২০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম এবং আমাদের শিক্ষর্থীরা এই পরীক্ষার মাধ্যমেই ভর্তি হয়েছে। এবছরও গুচ্ছভিত্তিক সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৩০ জুলাই বিজ্ঞান, ১৩ই আগস্ট মানবিক এবং ২০ আগস্ট বানিজ্য শাখায়। এবারের এঝঞ গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আরো দুটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হয়ে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একযোগে পরীক্ষা গ্রহণ করবে। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে, এই প্রথম বারের মতো রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর যে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা, সেই ভর্তি পরীক্ষার আয়োজক হিসেবে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা করবে শাহজাদপুরে, যা শাহজাদপুরের জন্যেও নতুন ঘটনা কারণ, এরকম পাবলিক পরীক্ষা শাহজাদপুরে এর আগে কখনো হয়নি, যার ফলে এটি আমাদের জন্য যেমন অত্যান্ত আনন্দের তেমনি শাহজাদপুরবাসীর জন্যেও আনন্দের। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা এজন্যে গুচ্ছভিত্তিক সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যদেরকে ধন্যবাদ জানাই যে তারা আমাদের উপর নির্ভর করে এখানে একটি কেন্দ্র পরিচালনা করার জন্য অনুমোদন দিয়েছেন। এই আনন্দের সাথে আমাদের কিছু সংকটেরও সৃষ্টি হয়েছে আমরা কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। যেমন, আমাদের এখানে সর্বমোট ৫ হাজার ৮’শ ১৬ জন ভর্তি পরীক্ষা দেবার জন্য এই কেন্দ্রকে পছন্দ করেছে। এ ইউনিটের (বিজ্ঞান) পরীক্ষায় আমাদের এখানে ৩ হাজার ৩২২ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। একসাথে ৩ হাজার ৩২২ জন পরীক্ষার্থী এবং তাদের সাথে তাদের অভিভাবকগণ আসবেন। এতে করে আমরা ধারণা করছি, প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষ নতুন করে পরীক্ষার দিন একসাথে সমাগত হবেন, যার ফলে এই ছোট্ট শহরের যানবাহন চলাচল এবং শহরের যে দৈনন্দিন পরিচালনার সংস্কৃতি, আমাদের ধারণা এর উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে ট্রাফিক ব্যবস্থার উপর। যার ফলে এখানে একটা বড় রকমের যানযট দেখা দেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এটাকে মুক্ত করতে না পারলে শহরের জন্যে সংকট সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে পরীক্ষার্থীরা বিভিন্ন জায়গায় থেকে এখানে আসবেন পরীক্ষা দিতে তারাও নির্বিঘ্নে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে পারবে না যেটি আমাদের কোন ভাবেই কাম্য নয়। আমরা চাই যে পরীক্ষার্থীসহ সবাই যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। পরীক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকেরা অনেকেই পরীক্ষার আগের দিন শাহজাদপুরে আসবেন এতে তাদের আবাসন সংকট সৃষ্টি হবে। এই দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্যে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং আমাদের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকারি প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ, পৌরসভার মেয়র, পরীক্ষার হল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি এবং সকলেই যে যার অবস্থান থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পৌরসভা কর্তৃক পরীক্ষার্থীদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা, বসার ব্যবস্থা করা এবং বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করে সহযোগিতা করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন, পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের জন্য গেস্ট হাউজের ব্যবস্থা করবেন এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ যেন তাদের ভাড়া না বৃদ্ধি করে সেটির নির্দেশনা প্রদান করবেন বলে জানিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পৌরসভার মেয়র শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটের আড়ৎ-এ পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের থাকার ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও শাহজাদপুরবাসীর পক্ষ থেকে অনেক পরিবার আবাসন ব্যবস্থা করার জন্য এগিয়ে এসেছেন, এভাবেই আমরা এ সংকট মোকাবেলা করতে পারবো।

পরীক্ষার্থীরা শুধু রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে আসবেন না তারা শাহজাদপুরে এসে একটি নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে যাবেন। পরীক্ষার্থীরা শাহজাদপুরে এসে যদি মনোরম পরিবেশ ও ভালো আতিথিয়তা পায় তাহলে সেটি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজাদপুরের জন্য আনন্দ ও গৌরবের হবে। শাহজাদপুর নতুন করে পরিচিতি লাভ করবে। আমি আপনাদের মাধ্যমে শাহজাদপুরবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করছেন, সমাজকর্মী, রাজনৈতিককর্মী ও সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই যে, ৩০ জুলাই ভর্তি পরীক্ষাটি শাহজাদপুরের একটি অহংকার এবং যারা বাইরে থেকে আসবেন তাদেরকে আপনারা আপনাদের অতিথি মনে করে আপনাদের যতটুকু সম্ভব তাদেরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আপনারা আপনাদের সম্পদ মনে করবেন এবং মনে করবেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রয়োজনে যদি আপনারা পাশে থাকেন তাহলে সারাজীবন ধরে শাহজাদপুরকে মানুষ মনে রাখবে। আমাদের পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জুলাই দুপুর ১২.০০ ঘটিকায় এবং শেষ হবে দুপুর ১.০০ ঘটিকায়, আপনারা জানেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন হিসেবে ৩ টি কলেজ আমরা ব্যবহার করছি কিন্তু আমরা ভর্তি পরীক্ষায় নিরাপত্তা এবং পরীক্ষার্থীদেও সুবিধা বিবেচনা করে আমরা আমাদের ক্যাম্পাসের পরীক্ষাগুলো ইব্রাহিম পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে একটি কেন্দ্র এবং শাহজাদপুর সরকারি কলেজে একটি কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছি। কেন্দ্রগুলো যথেষ্ট নিরাপদ থাকবে, আমাদের পক্ষ থেকে যা যা পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন তা করছি। কিভাবে পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রেখেছি। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, আমরা চাই যে ৩০ তারিখের পরীক্ষাটি হোক অত্যান্ত আনন্দের এবং স্মরণীয় হয়ে থাক আমাদের স্মৃতিতে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য প্রফেসর ড. শাহ আজমের সাথে ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির চেয়ারম্যান ড. ফখরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ টি বিভাগের চেয়ারম্যান ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলী।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © Matrijagat TV
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
matv2425802581