রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

লকডাউনে আয়শূন্য হয়ে পড়েছে রাজশাহীর পরিবহন শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন

মোঃমাসুদ আলী (পুলক)রাজশাহী ব্যুরোঃ
  • আপডেট টাইম রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১

রাজশাহীর প্রায় ২০ হাজার পরিবহন শ্রমিক টানা লকডাউনে আয়শূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে খেয়ে না খেয়ে পরিবার নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ৮ জুলাই থেকে রাজশাহী থেকে বাস চলানো জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন রাখেন মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন রাজশাহী আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী। বাস ট্রাক মালিক সমিতির কয়েকজন একটি বাস চললে মালিক ছাড়াও চালক, সুপারভাইজার, কন্ডাক্টর আর হেলপারের প্রয়োজন হয়। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওয়েবিল লেখা কর্মী, চেকার ও সুপারভাইজার। রাজশাহীতে এসব শ্রমিকই রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার। আর পরিবহনটি ঘিরে পেট চালান কমপক্ষে আরও ১০ ধরনের শ্রমিক। শুধু তাই নয়, সৌন্দর্যবর্ধন থেকে শুরু করে পরিবহনের ছোট্ট একটি যন্ত্রাংশ মেরামতে যুক্ত রয়েছে আরও কিছু শ্রমিক। গ্রিজ মিস্ত্রি, ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি, অটোপার্টেস দোকানি থেকে শুরু করে মেরামতকারীসহ বিভিন্ন ধরনের শ্রমিকরা যুক্ত রয়েছেন পরিবহন খাতে। রাজশাহী জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা বাসচালক,শ্রমিক, হেলপার,সুপারভাইজার, তারা বলেন।‘আমরা দিন আনি দিন খাই। জমানো টাকা বলতে কিছু নেই। লকডাউন আরও বাড়লে কী খাব, কী করব, তা ভেবে পাচ্ছি না।’ বাসের হেলপার গাড়ীর চাকা ঘুরলেই ‘বাস চললেই আমাদের পেট চলে। বাস বন্ধ, আয় রোজগারও বন্ধ। গতবার অনেকেই সাহায্য অনুদান দিয়েছিলেন। এবার কারও কোনো সাড়া নেই।এবার লকডাউনে সবকিছু বন্ধ, বাকি দিনগুলো কীভাবে চলবে আল্লাহই ভালো জানেন।’ মহানগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকার গ্রিজ মিস্ত্রীরা বলেন। ‘গাড়ি চললে কাজ পাই। তা দিয়েই চলত সংসার। টানা লকডাউনে গাড়ি বন্ধ। তাই ইনকামও বন্ধ।কীভাবে পরিবারের খাবার যোগাবো সেটা মাথায় আসছে না।’ এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী , মোটরশ্রমিকদের অবস্থা বর্ণনা করার মতো নেই। সবমিলে একটা বাজে অবস্থায় দিন পার হচ্ছে। একের পর এক লকডাউনের ঘোষণায় শ্রমিকরা পারিবারিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের মতো ঘটনাও বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। পরিবহন চালুর পক্ষে সমর্থন জানিয়ে শ্রমিক নেতা মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, লকডাউনে বেশিরভাগ সেক্টর খোলা। তাহলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবহন চললে সমস্যা কোথায়? স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে মানুষের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি শ্রমিকরাও দু’বেলা খাওয়ার টাকাটা জোগাড় করতে পারবে। এভাবে শ্রমিকদের ধৈর্য্যরে বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। এক সপ্তাহ লকডাউন শেষ হলেই বাস চলাচলের ব্যবস্থা করে দিতে তিনি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান শ্রমিক নেতা মাহাতাব হোসেন চৌধুরী।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
টিভি চ্যানেল
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
matv2425802581