সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন

মুহাররম ও আশূরার ফযীলত, করণীয় ও বর্জণীয়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০

মোঃ ওমর ফারুক নরসিংদী

হিজরী সনের প্রথম মাস মুহাররম মাস। অত্যন্ত সম্মান, ফযীলত, মর্যাদা ও তাৎপর্যপূর্ণ মাস। কুরআন ও হাদীসে এ মাসের ফযীলত ও করণীয় সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। এ মাসের ফযীলত এবং করণীয় ও বর্জণীয় বিষয়গুলো এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।

মুহাররমের ফযীলত:
১। কুরআন মাজীদে বর্ণিত নিষিদ্ধ চার মাসের মধ্যে একটি মাস হল মুহাররম। [সূরা তাওবা ৩৬ [৯:৩৬)]
২। মাহে রামাযানের পর সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ মাস হল মুহাররম মাস:
* হযরত আবূ জর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম যে, রাতের কোন অংশটি উত্তম এবং কোন মাসটি অধিক মার্যাদাপূর্ণ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, রাতের উত্তম অংশ হল মধ্যভাগ এবং মাসসমূহের মধ্যে মর্যাদাবান হল আল্লাহর মাস যাকে তোমরা মুহাররম বল (রামাযান মাস ব্যতীত)। নাসায়ী শরীফ।
৩। সম্মানিত ও নিষিদ্ধ চার মাসের মধ্যে মুহাররম মাস সর্বোত্তম:
* ইবনে রজব রাহ. বলেন, অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের নিকট আশহুরে হুরুম (নিষিদ্ধ মাসসমূহ) এর মধ্যে মুহাররম মাসই সর্বোত্তম মাস।

** মুহাররম মাসে রোযা রাখার ফযীলত:
* রামাযানের পর মুহাররমের রোযা সবচেয়ে উত্তম

১। অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, রামাযান মাসের রোযার পর সর্বোত্তম রোযা মুহাররমের রোযা এবং ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হলো রাতের নামায। (মুসলিম, হা. নং-১১৬৩)

* অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:

২। অর্থ: হযরত জুনদুব রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, রমযান মাসের রোযার পর সর্বোত্তম রোযা হলো ঐ মাসের রোযা যাকে তোমরা মুহাররম বলে ডাক। (সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ২৯০৪)

* আরেক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:

৩। অর্থ: হযরত আলী রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, রামাযানের পর যদি তুমি রোযা রাখতে চাও তাহলে, মুহাররম মাসে রাখ; কারণ এই মাসে এমন একটি দিন রয়েছে যাতে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তাওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্য একটি জতির তাওবা কবুল করবেন। (তিরমিযী ৭৪১)

** আশূরার রোযার গুরুত্ব ও ফযীলত:
মুহাররম মাসের দশম তারিখকে আশূরা বলা হয়। এদিনটি অত্যন্ত গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ। আশূরার দিনে রোযা রাখার বিষয়টি অনেক পূর্ব থেকেই চলে আসছে। এ দিনে হযরত নূহ আ. এর নৌকা জূদী পর্বতে থেমেছিল; এর শুকরিয়া হিসেবে হযরত নূহ আ. এ দিনে রোযা রেখেছেন। এ দিনে আল্লাহ তা‘আলা হযরত মূসা আ. ও তাঁর অনুসারীদেরকে ফেরাউনের হাত থেকে নাজাত দিয়েছিলেন যার শুকরিয়া হিসেবে হযরত মূসা আ. এ দিনে রোযা রেখেছেন। (মুসনাদে আহমাদ ৮৭১৭) এমনকি আইয়ামে জাহিলিয়্যাতেও মক্কার লোকেরা আশূরার রোযা রাখতো। (বুখারী: ২০০২, মুসলিম: ১১২৫) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের পূর্বে মক্কা মুকাররমা থাকা অবস্থায়ই আশূরার রোযা রেখেছেন এবং রোযা রাখার জন্য আদেশ দিতেন এবং উৎসাহিত করতেন। (মুসলিম: ১১২৮)

* রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশূরার রোযাকে অনেক গুরুত্ব দিতেন:

১। অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আশূরার রোযা ও রামাযানের রোযার উপর অন্য কোন দিবসের রোযাকে প্রাধান্য দিতে দেখিনি। (বুখারী ১৮৮০, মুসলিম ১১৩২)

* আশূরার রোযা বিগত বছরের গোনাহের জন্য কাফফারা:
২। অর্থ: হযরত আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আশূরার রোযার ফযীলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তরে বলেন, এই রোযা বিগত বছরের গোনাহ মুছে দেয়। (মুসলিম ১১৬২)

* রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশূরার রোযা কখনো ছাড়তেন না:

৩। অর্থ: হযরত হাফসা রা. বর্ণনা করেন, চারটি আমল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো ছাড়তেন না। আশূরার রোযা, জিলহজ্জের প্রথম দশকের রোযা, প্রত্যেক মাসের তিন দিনের রোযা, ফজরের আগে দুই রাকাত সুন্নত নামায। (সুনানে নাসায়ীঃ ২৭২৪; মুসনাদে আহমাদঃ ২৬৪৫৯)

** মুহাররম ও আশূরায় করণীয়:
* গোনাহ মুক্ত থাকা। বেশি বেশি তাওবা-ইস্তেগফার করা।
* নফল ইবাদ-বন্দেগীর পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া।
* মুহাররম মাসে বেশি বেশি নফল রোযা রাখার চেষ্টা করা।
* আশূরার রোযা রাখা। অর্থাৎ, মুহাররমের দশ তারিখে রোযা রাখা এবং তার আগে বা পরে একদিন মিলিয়ে রোযা রাখা।
* নফল ইবাদত বন্দেগি বাড়িয়ে দেওয়া।
*সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবার ও পরিজনের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্হা করা।

আশুরায় আমাদের দেশে অনেক ভ্রান্ত ও কুসংস্কারমূলক কাজ সংগঠিত হয় যেমন এটাকে ইহুদিদের মত ঈদ হিসেবে পালন করা।
শোক ও মাতম করা এবং শরীর রক্তাক্ত করা।
আতশবাজি পটকাফুলানো
ইত্যাদি গর্হিত কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © Matrijagat TV
Developed BY Matrijagat TV
matv2425802581