মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১২:১১ অপরাহ্ন

বান্দরবানে সেনাবাহিনীর ও জেএসএস এর গোলাগুলিতে কলাপাড়ার সন্তান সেনা সদস্য হাবিবসহ ৪জন নিহত

নীলরতন কুন্ডু নিলয়,
  • আপডেট টাইম শনিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

বান্দরবানে সেনাবাহিনীর ও জেএসএস এর গোলাগুলিতে কলাপাড়ার সন্তান সেনা সদস্য হাবিবসহ ৪জন নিহত

 

 

নীলরতন কুন্ডু নিলয়, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি : বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলে সেনাবাহিনীর সাথে জেএসএস সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে সেনা সদস্যসহ ৪ জন নিহত ও ১ জন আহত, নিহত সেনা সদস্য হাবিব মহিপুর থানার লতিফপুর গ্রামের মজিদ সরদারের ছেলে। নিহত হাবিবের ছোট ছেলে হাসান, সেনাবাহিনীতে ৮ মাস যাবত কর্মরত আছেন। নিহত হাবিবের লাশ পটুয়াখালী ২ নং বাদঘাট বহালগাছিয়া গাজী বাড়িতে তার বানানো বাড়ির আঙ্গিনার কবরে তাকে দফন করা হবে বলে জানান পারিবারিক সূত্র। বুধবার রাতে বান্দরবনের রম্নমা জোনের একটি টহল দলের সাথে সন্তু লারমা সমর্থিত জেএসএস মূল দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ের ঘটনায় সেনাবাহিনীর একজন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসারসহ তিনজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত এবং একজন সেনা সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়।

 

নির্ভরযোগ্য তথ্য সূত্রে জানা যায়, জেএসএস সন্ত্রাসীদের একটি দল রম্নমা উপজেলার বথিপাড়া এলাকায় চাঁদাবাজির জন্য আগমন করবে এ তথ্যের ভিত্তিতে রাইং খিয়াং লেক আর্মি ক্যাম্প হতে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবের নেতৃত্বে একটি টহল দল বথি পাড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। রাতে টহল দলটি উক্ত এলাকায় পৌঁছালে পাহাড়ের নিকটস্থ একটি জুম ঘর থেকে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত গুলি বর্ষণ করে। জবাবে সেনা টহল দলের সাহসী পাল্টা হামলায় সন্তু লারমার মদদপুষ্ট জেএসএস মূল দলের তিনজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। এসময় পলায়নপর সন্ত্রাসীদের এলোপাথারি গুলিতে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে টহল কমান্ডার সিনিয়র ওযারেন্ট অফিসার হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন এবং সৈনিক ফিরোজ নামে একজন সেনাসদস্য ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। আহত সেনা সদস্যকে বৃহস্পতিবার সকালে রম্নমা হতে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। অভিযানে সেনা টহল দল কর্তৃক সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত ১ টি এসএমজি, ২৭৫ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩ টি এম্যোনিশন ম্যাগাজিন, ৩ টি গাদা বন্দুক, গাদা বন্দুকের ৫ রাউন্ড গুলি, ৪ জোড়া ইউনিফর্ম এবং চাঁদাবাজির নগদ ৫২,৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সেনা টহল দল উক্ত এলাকায় ব্যাপক তলস্নাশী জারি রেখেছে এবং স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এ পরিস্থিতিতে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা-সাবভৌমত্ব ও ভূখন্ডের অষন্ডতা রক্ষায় দৃঢ অঙ্গীকারাবদ্ধ।

 

উলেস্নখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্ত্মিচুক্তির অনুচ্ছেদ ঘ-এর ধারা অনুযায়ী সকল অস্ত্র ও গোলাবারম্নদ জমা দেওয়ার মাধ্যমে তৎকালীন শান্ত্মিবাহিনীর সকল সদস্যের আত্মসমর্পণের শর্ত থাকলেও সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস তা ভঙ্গ করে চুক্তি সম্পাদনের পরবর্তী সময় হতেই সশস্ত্র সন্ত্রাসী লালন করে আসছে। যদিও প্রায়ই সন্তু লারমা ও তার দল শান্ত্মি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ ও বাস্ত্মবায়ন না করার অভিযোগ করে থাকে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে তৎপর চারটি আঞ্চলিক দল হত্যা, গুম,চাঁদাবাজি ইত্যাদি দুষ্কৃতিমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে পাহাড়ের নিরীহ সাধারণ মানুষের জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। পাশাপাশি সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ হতে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন জুম্মল্যান্ড সৃষ্টির পায়তারা করছে, যা দেশদ্রোহিতার শামিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © Matrijagat TV
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
matv2425802581