রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

ফলোআপঃ সাতক্ষীরায় অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু “রত্না” হত্যার দায় স্বীকার করে তৃতীয় স্বামীর জবানবন্দি! 📺 Matrijagat TV

 আজহারুল ইসলাম সাদী, সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২০

সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের অসীম সাধুর বাড়ির ভাড়াটিয়া ফারহানা আক্তার রত্নাকে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত বর্তমান স্বামী হাসিবুর রহমান সবুজ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আজ ৯ ই মার্চ সোমবার সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এক প্রেস ব্রিফিং এ হত্যার নেপথ্যের সকল ঘটনা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

হাসিবুর রহমান সবুজ কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার খাসমথুরাপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। রোববার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম রাকিবুল ইসলামের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, হাসিবুর রহমান সবুজ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মালোত গ্রামের রোকনউদ্দিন সরদারের মেয়ে ফারহানা আক্তার রত্নার তৃতীয় স্বামী।

দ্বিতীয় স্বামী খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চারা বটতলা এলাকার মিজানুর রহমানের সঙ্গে তালাক হয়ে যাওয়ার পর রত্না পাইকগাছা আদালতে নারী ও শিশু শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলা চলাকালে রত্নার বিউটি পার্লারে হাসিবুরের পরিচয় হয়। সেখান থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ও গত বছরের ৪ নভেম্বর তাদের বিয়ে হয়। হাসিবুরের বাড়িতে রত্নাকে মেনে না নেওয়ায় তারা তালা উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের অসীম সাধুর বাড়িতে এক হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় ৮ নভেম্বর থেকে বসবাস শুরু করে। বাপের বাড়ি থেকে দেওয়া লক্ষাধিক টাকা নিয়ে সাবেক স্বামী মিজানুর রহমান শেখ ব্যবসা করায় রত্নার সহ্য হচ্ছিল না। এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য রত্না তার তৃতীয় স্বামী হাসিবুরকে বলে। এজন্য মিজানকে র‌্যাব দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া বা পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলতো। এ নিয়ে রত্না ও হাসিবুরের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এমন এক পরিস্থিতিতে গত ২০ ফেব্রুয়ারিতে হাসিবুর রহমান সবুজ তার স্ত্রীর সাবেক স্বামী মিজানুরের দোকান জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য জনৈক কবীর হোসেন নামের এক ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালককে নিয়ে তালা বাজার থেকে একটি প্লাস্টিক কর্ন্টেনারে করে তিন লিটার পেট্রোল নিয়ে আসে। অন্য এক দোকান থেকে নিয়ে আসে দু’টি প্লাস্টিক টিউব। এরপর থেকে অস্থির হয়ে ওঠে রত্না। সবুজ বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে ২১ ফেব্রুয়ারি রাত একটার দিকে সবুজ ঘরে ফিরে আসে। তখন রত্না নিজের ঘরে পেট্রোল ছড়িয়ে সারা ঘর জ্বালিয়ে দিতে চায়।

যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে টেবিলের উপরে থাকা দিয়াশলাই নিয়ে ঘরে আগুন দিয়ে বারান্দায় চলে যায় সবুজ। এতে রত্না ও ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে যেতে শুরু করলে সবুজ দোতলায় উঠে গৃহকর্তাকে ডেকে আনে। সবুজ ঘটনার জন্য দায়ী নয় প্রমাণ করতে রত্নাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়, রত্নাকে দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
টিভি চ্যানেল
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
matv2425802581