মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ০৩:৫২ অপরাহ্ন

পাটনারের সঙ্গে যৌন মিলনে বাধ্য করায় স্বামীকে জবাই করে হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুর আটক! ? Matrijagat TV

মোঃ হুমায়ূন কবির, স্টাফ রিপোর্টার।
  • আপডেট টাইম বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৮,নং ওয়ার্ড কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের (প্রশিকার মোড়) ৮,নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, আব্দুল ছালাম মোল্লার বাড়ীর সংলগ্ন চাঁন মিয়া ছেলে মজনু মিয়া। এর বাড়ীতে তিনতলার একটি ফ্ল্যাটে, চতুর্থ স্ত্রী সামিরাকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন জমি ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান (৫০)।

গত ১০/২/২০২০ইং সোমবার, আব্দুর রহমানের ব্যবসায়ী পাটনারের সাথে স্ত্রী সামিরা(২৫)কে যৌন কাজে লিপ্ত হওয়ার জন্য বাধ্য করেন, সামিরার স্বামী আব্দুর রহমান। এই ক্ষোভে ঘটনার দিন রাত ৩,টার দিকে ধারাল দা দিয়ে স্বামীকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ এ্যাসিড দিয়ে ঝলসে তোশকে মুড়িয়ে পাটের বস্তায় ভরে রাখেন সামিরা। হত্যার পরে তিনদিন সামিরা মরদেহ নিয়ে একই বাসায় অবস্থান করেন। তার পর মরদেহ সরিয়ে ফেলতে ব্যর্থ হয়ে, মা-বাবার সহযোগীতায় বাসা থেকে পালিয়ে যান সামিরা। ২৪/২/২০২০ইং সোমবার র‌্যাব-১ পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের একটি দল, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে সামিরা ও তার বাবাকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতাররা হলেন মৃত আব্দুর রহমানের স্ত্রী সামিরা আক্তার (২৫) ও তার বাবা বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার, মৃৃত ফজলুল হকের ছেলে, গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকার ছামিদুলের বাড়ীর ভাড়াটিয়া আলী হোসেন (৫৬)। সামিরার বরাত দিয়ে র‌্যাব-১ পোড়াবাড়ি ক্যাম্প জানায়। জমি ব্যবসায়ী মৃত আব্দুর রহমানের চতুর্থ স্ত্রী সামিরা গতো ১০/২/২০২০ইং সোমবার ব্যবসায়ী পাটনার রতনের সঙ্গে, স্ত্রী সামিরাকে যৌন কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করান স্বামী আব্দুর রহমান। ওই দিন রাত ১১,টার দিকে রতন তাদের বাসা থেকে চলে যান। পরিকল্পনা করে রাত ৩,টার দিকে বাসায় থাকা ধারাল দা দিয়ে আব্দুর রহমানকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা কেটে হত্যা করেন সামিরা। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আব্দুর রহমানের মরদেহ তোশকে মুড়িয়ে পাটের বস্তায় ভরে ঘরের ভেতর রেখে দে, মৃত্যুর পর যাতে মরদেহ চিহ্নিত করতে না পারে সেজন্য মুখমণ্ডল এ্যাসিড দিয়ে ঝলসে দেয়। হত্যার পর তিনদিন সামিরা মরদেহ নিয়ে একই বাসায় থাকেন। আব্দর রহমানের, মরদেহ সরিয়ে ফেলতে ব্যর্থ হয়ে মা-বাবার সহযোগীতায় বাসা থেকে পালিয়ে যান।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন ফুলবাড়ীয়া এলাকার সামিরার এক বান্ধবীর বাসায় সেখানে দুদিন আত্মগোপন করার পর ১৫/২/২০২০ইং শনিবার চলে যান। নওগাঁয় মামার বাড়ী। সেখানে ৯,দিন থাকার পর ২৩/২/২০২০ইং রোববার রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় চাচার বাসায় আত্মগোপন করেন সামিরা। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা থেকে সামিরা ও তার বাবা আলী হোসেনকে, গ্রেফতার করে র‌্যাব। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সামিরা খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ঘটনার মর্মান্তিক বর্ণনা দেন। র‌্যাব জানায়, মৃত আব্দুর রহমান ও সামিরার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় পূর্বপরিচিত ছিলেন। ২০১৬ সালে আব্দুর রহমান দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে বসবাস করতেন। সামিরা টঙ্গী সরকারি কলেজ থেকে ডিগ্রি পরীক্ষার্থী ছিলেন। দুজন পূর্বপরিচিত হওয়ায় আব্দুর রহমানের বাসায় থেকে পরীক্ষা দিতেন সামিরা। এরই মধ্যে সামিরাকে বিভিন্নভাবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন আব্দুর রহমান। এরপর কৌশলে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে সামিরাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন মৃত আব্দুর রহমান। একই সঙ্গে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ধর্ষণের ভিডিও এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন চলে ধর্ষণ। ওই ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশ পেলে সামিরাকে ডিভোর্স দেন স্বামী। পরে সামিরা উপজেলার নয়নপুর এলাকায় একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতেন।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সামিরাকে বিয়ে করে মৃত আব্দুর রহমান। র‌্যাব আরও জানায়, তাদের বিয়ের পর থেকে ঘটনার দিন পর্যন্ত আব্দুর রহমান তার ব্যবসায়ী স্বার্থে আবার কখনও টাকার বিনিময়ে ব্যবসায়ীর পাটনারের সঙ্গে স্ত্রী সামিরাকে যৌন কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন। যৌন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ডিভোর্স চাইলে সামিরাসহ তার মা-ভাইকে হত্যার হুমকি দেন। এসব ঘটনায় প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে আব্দুর রহমানকে খুন করেন সামিরা। র‌্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মূলত যৌন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে আব্দুর রহমানকে খুন করেন সামিরা। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শ্রীপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে গত ১৮/২/২০২০ইং মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে স্ত্রী সামিরা পলাতক ছিলেন। ভবন মালিক চাঁন মিয়ার ছেলে মজনু বলেন, মাস খানেক আগে তিনতলার একটি ফ্ল্যাট স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া নেন সামিরা ও আব্দুর রহমান। ভাড়া নেয়ার পর তারা বসবাস করে আসছিলেন। চার-পাঁচদিন ধরে ঘরের দরজা তালাবদ্ধ থাকায় ১৭/২/২০২০ইং সোমবার বিকেলে বারান্দা দিয়ে ফ্ল্যাটের ভেতর তোশকে মোড়ানো মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে ঘরের দরজা ভেঙে আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় তার স্ত্রী সামিরা পলাতক ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © Matrijagat TV
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
matv2425802581