শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৩:১৯ অপরাহ্ন

পঞ্চগড় বাঁশি আজ আতঙ্কিত যেকোনো মুহূর্তে ভূমিকম্পে তলিয়ে যেতে পারে পঞ্চগড়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম শনিবার, ৬ জুন, ২০২০
  1. পঞ্চগড় বাঁশি আজ আতঙ্কিত যেকোনো মুহূর্তে ভূমিকম্পে তলিয়ে যেতে পারে পঞ্চগড

মো: ইমরান হোসেন রাজু স্টাফ রিপোর্টার

পঞ্চগড়ে আবার খোলস চেঞ্জ করে ড্রেজার বাহিনী নদী খননের নামে তুলছে পাথর পঞ্চগড় বাঁশি আজ আতঙ্কিত যেকোনো মুহূর্তে ভূমিকম্পে তলিয়ে যেতে পারে পঞ্চগড় ওরা মুখে তেঁতুলিয়া কতিপয় অসাধু ‘পাথর খেকো’ দীর্ঘদিন ধরে পাথরের সন্ধানে নির্বিচারে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ক্ষত বিক্ষত করেছে তেঁতুলিয়ার ভূমি। থমকে থাকেনি পঞ্চগড় সদর ও বোদা উপজেলা।
জেলার সচেতন মানুষেরা বহুবার রাজপথে নেমেছিলো এসকল অবৈধ মেশিন বন্ধের দাবিতে। একাধিকবার সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেছিল। সামাজিক, সাংষ্কৃতিক ও পেশাজীবি সংগঠনগুলো অবৈধ এসকল মেশিন বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করতে করতে অনেকটা ক্লান্তই হয়ে গেছে।
অবশেষে গত কয়েক মাস আগে প্রশাসন চুড়ান্তভাবে বন্ধই করে দিতে সক্ষম হয়েছে। কিছুদিন পরেই অসাধু চক্রটি আবারো পাথর শ্রমিকদের ব্যবহার করে রাজপথে পুলিশের সাথে মুখোমুখি হয়েছে। আড়ালে থেকে গেছে সংঘবদ্ধ চক্রটি। মাঝে আহত হয়েছে কিছু পুলিশ সদস্য, প্রাণ গেছে ১ জন নিরীহ পাথর শ্রমিকের, অসহায় আরেক শ্রমিক হাড়িয়েছে পাঁ।
তেঁতুলিয়া থানায় অজ্ঞাত ৫ হাজার মানুষকে আসামী করে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। এদের অনেকেই জামিনে মুক্ত। মাঝে ওই স্বার্থন্বেষী মহলের কারণে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে পাথর আহরণকারী হাজার হাজার শ্রমিক হয়েছে বেকার।
করতোয়া নদীর গতি প্রবাহ বাড়ানোর জন্য সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে পঞ্চগড়ের করতোয়া ও পাথরাজ নদীতে খননের কাজ শুরু করেছে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে খননের জন্য কার্য্যাদেশ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এসকল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিজেরা খনন না করে কয়েক দফা হাত বদল করেছে। সর্বশেষ যারা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে খনন কাজে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে তারা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সাথে যোগ সাজস করে নদীতে পানি না থাকলেও অবৈধ ড্রিল ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী খননের কাজ শুরু করেছে উদ্দেশ্য পাথর আহরণ।
তাদের পাথর আহরনের পিপাসা পূরণ করতে গিয়ে সরকারের যে মহৎ উদ্যোগ জীব-বৈচিত্র রক্ষা নদীর খরস্রোতা কমিয়ে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করা তা ব্যাহত হতে চলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জানিয়েও কোন কাজ হয় না। এসকল নদীতে ড্রিল ড্রেজার মেশিনের পরিবর্তে স্কেবেটর দিয়ে খনন করা খুবই সহজ তা সত্যেও তারা অধিক লাভবান হওয়ার পিপাসায় অবৈধ পরিবেশ বিরোধী মেশিন ব্যবহার করছে। এদিকে তেঁতুলিয়ার প্রায় ৫০ হাজার পাথর শ্রমিক বেকার। তাদের দাবি তেঁতুলিয়ায় ড্রিল ড্রেজার মেশিন বন্ধের জন্য প্রশাসন কঠোর আচরণ করলেও পঞ্চগড় সদর উপজেলার করতোয়া নদীর মীরগড় সীমান্ত এলাকা থেকে দেবীগঞ্জ পর্যন্ত প্রশাসনের নমনীয় ভাব। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অনেকটা চুপচাপ। জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি অনেকটা এড়িয়েই চলছে। জেলার পঞ্চগড় সদর উপজেলা, তেঁতুলিয়া, বোদা, দেবীগঞ্জে করতোয়া নদীতে চলছে ড্রিল ড্রেজার মেশিন। তবে তেঁতুলিয়া ও পঞ্চগড় সদর উপজেলার কিছু কিছু নদীতে স্কেবেটর দিয়েই খনন করা হচ্ছে। যেসকল নদীতে স্কেবেটর দিয়ে খনন করা হচ্ছে সেই সকল নদীর খনন কাজ নিয়ে পাথর, বালি ও পরিবহন শ্রমিকদের কোন অভিযোগ নেই। এখনই এসকল ড্রিল ড্রেজার মেশিন বন্ধ না হলে পাথর, বালি ও পরিবহন শ্রমিকরা ফুঁসে উঠতে পারে যে কোন সময়ই। সামাজিক, সাংষ্কৃতিক ও পেশাজীবি সংগঠনের সদস্যরাও নামতে পারে রাজপথে। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়কে করতোয়া নদীর পানি প্রবাহ নিয়ে ভূল বুঝিয়ে ড্রেজার মেশিন চালানোর চেষ্টা চলছে। প্রকৃতপক্ষে করতোয়া নদীতে তীব্র বর্ষা মৌসুমে খুব স্বল্প সময়ে নদীর প্রবাহ থাকে। এরপর চিরচেনা ক্ষরস্রোতা নদীর প্রবাহ থেকে যায় মাসের পর মাস। নদীর প্রায় মাঝখানে সাধারণ মানুষ ধান চাষ করে।
বোদা উপজেলার বেংহাড়ি বনগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা সাফিউর রহমান বলেন, নদীতে পানি নেই অথচ ড্রেজার দিয়ে খনন অবিরাম চলছে। তারা পাথর উত্তোলন করছে নাকি নদী খনন করছে তা কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। একই ইউনিয়নের কবির হোসেন বলেন, আমার বাড়ির পার্শ্বে করতোয়া নদী। বালুর চেয়ে পাথর উত্তোলনে আগ্রহ দেখছি সবচেয়ে বেশি নদী খননকারী ঠিকাদারের লোকজনের। ড্রেজার চালানোর প্রয়োজন এমন প্রবাহ নদীতে নেই। তা সত্ত্বেও তারা কেন ড্রেজার চালাচ্ছে? পাথর বালি ব্যবসায়ি সদর উপজেলা কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, বাব-দাদার আমল থেকে করতোয়া নদীতে স্থানীয় শ্রমিকেরা পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করতো। পানির প্রবাহ বাড়লে নদীতে তারা ডুবে ডুবে পাথর উত্তোলন করতো নেট দিয়ে। হঠাৎ তাদের মাথায় হাত পড়েছে। খননের নামে এসব নির্বিচারে কি হচ্ছে? তারা এখন কোথায় যাবে কি কাজ করবে তা আর খুজে পাচ্ছে না। তিনিও দাবি করেন ড্রিল ড্রেজার মেশিনের পরিবর্তে স্কেবেটর দিয়েই খনন করা হোক। অবৈধ ড্রিল ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী খনন করলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই শত শত কোটি টাকা ব্যায়ে নদী রক্ষা বাধগুলো হুমকিতে পড়বে। কিছু কিছু এলাকা সীমান্তবর্তী হওয়ায় ওই নদীরক্ষা বাধগুলো ভেঙ্গে গেলে ভারতের ভুখন্ডে বাংলাদেশী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।
জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনারা লোকাল থানাকে জানান।
পুলিশ সুপার মো. ইউসুফ আলী বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন।
পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, আমরা তাদের পাথর উত্তোলন করার অনুমতি দেইনি।
পঞ্চগড় জেলা পরিবেশ আন্দোলন কমিটির আহবায়ক সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক ও আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সরকারের সৎ উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে একটি স্বার্থন্বেষি মহল ড্রিল ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী খননের নামে পাথর উত্তোলন করছে। এতে নদীর প্রবাহের পরিবর্তে নদীর আশে পাশের এলাকাগুলোতে মাটির গভীরে শূন্যতার সৃষ্টি হবে। প্রয়োজনে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
টিভি চ্যানেল
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
matv2425802581