মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১২:১৮ অপরাহ্ন

তালতলীতে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূ

সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃবরগুনার
  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

তালতলীতে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূ

সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃবরগুনার তালতলীতে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষনে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন এক গৃহবধূ আজ (শুক্রবার) দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছর পূর্বে উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ৮০ বছরের এক বৃদ্ধের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ায় সন্তানরা ওই বৃদ্ধকে আবার দ্বিতীয় বিয়ে করান। দ্বিতীয় পক্ষের সংসারে তাদের চারটি ছেলে সন্তান হয়। কয়েক বছর পূর্বে ওই বৃদ্ধ প্যারালাইসিস হয়ে অসুস্থ্য হলে সংসারের হাল ধরতে হয় ওই গৃহবধূর। ফকিরহাট মাছ বাজারে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। গত বছর বাংলা পৌষ মাসে ওই গৃহবধূর সাথে পরকিয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পরেন ওই মাছ বাজারের অপর শ্রমিক কদম মুন্সির ছেলে মোজাম্মেল মুন্সি (৩০)। কিছুদিন পরে ওই গৃহবধূর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের বিষয়টি নজরে পরে প্রথম স্ত্রীর মেয়ের চোঁখে। তিনি ওই বিষয়টি জানতে চাইলে মোজাম্মেল মুন্সির সাথে তার পরকীয়ার সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন এবং ওই গৃহবধূ সন্তান সম্ভবা বলে স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে ভূক্তভোগী ওই গৃহবধূ আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা টাকা পয়সা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে বলে স্থাণীয় সূত্রে জানা গেছে ।

অন্তঃসত্ত¡া ওই গৃহবধূ জানায়,স্বামী বার্ধক্যজনিত কারনে বিছানায় প্রায় দু’বছর এ জন্য তিনি স্বামী সন্তানদের জন্য ফকিরহাট মাছ বাজারে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। অভাবের এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন স্থানীয় মাছ বাজারের শ্রমিক কদম মুন্সির ছেলে মোজাম্মেল মুন্সি। বিয়ের প্রলোভনে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করায় বর্তমানে আমি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত¡া। মোজাম্মেলকে বিয়ের কথা বলার পরেও সে এ বিষয়ে কোন কর্ণপাত করেননি। অবশেষে আমি লাজলজ্জা ফেলে আপনাদের (সাংবাদিক) কাছে জানাইলাম।

অন্তঃসত্ত¡া ওই গৃহবধূর স্বামী (৮০) জানান, প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সন্তানরা আমাকে দেখা শুনার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করায়। কয়েক বছর আগে আমি অসুস্থ্য হলে, দ্বিতীয় স্ত্রী ফকিরহাট মাছ বাজারে শ্রমিকের কাজ করে উপার্যন করে চার সন্তানসহ আমাকে খাওয়াতো। এখন এ রকম ন্যক্কারজনক কাজ করায় আমার স্ত্রী কাজে যেতে পারছেনা। আমরা এখন না খেয়ে মরার অবস্থার মধ্যে আছি। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যে ঘটনা ওই ভূক্তভোগী গৃহবধূর সাথে ঘটেছে এতে করে নি¤œ আয়ের মানুষরা তাদের মা বোন ও স্ত্রীদেরকে আর ফকিরহাট মাছ বাজারে কাজে পাঠাবেনা। আমরা এই ঘটনার কঠিন শাস্তি দাবি করছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আঃ ছালাম হাওলাদার বলেন, বৃদ্ধের পরিবারটি ওই গৃহবধূর আয়ের উপর বেঁচেছিল। ওইই ঘটনার পর তাদের রুটিরুজি বন্ধ হয়ে গেছে। এলাকার মা বোনেরা ফকিরহাট বাজারে এখন কাজ করতে চায়না। আমি এ ঘটনার কঠিন বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শ্রমিক মোজাম্মেলের ব্যবহৃত মুঠোফোনে (০১৭৭৭৩৩৬৫৪৪) কল দিলেও তিনি রিসিফ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন (তপু) মুঠোফোনে বলেন, এ বিষয় আমাদের কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © Matrijagat TV
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
matv2425802581