রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৬:১৬ অপরাহ্ন

কলারোয়ায় সরকারি ঔষধ আত্মসাত! ফলোআপ- ০২: ইউএনও’র নির্দেশনা থাকলেও মামলা করেনি ইউপি চেয়ারম্যান মনি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০

মোঃ আলামিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ০৭ নং চন্দনপুর ইউনিয়নের বয়ারডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রভাইডার ( সিএইচসিপি) আব্দুল আলিম কতৃক সরকারি ঔষধ আত্মসাতের ঘটনায় থানায় মামলা করার নির্দেশনা থাকলেও তা না করে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন ঐ ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম মনি।

অনুসন্ধান বলছে, গত ( ০৮ আগস্ট) শনিবার সকালে সরকারি ঔষধ সহ ঐ সিএইচসিপি স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ার পর তারা জরুরি ভিত্তিতে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম মনি’কে জানান। এরপর তিনি কথিত ঐ সরকারি ঔষধ আত্মসাত কারী আব্দুল আলিম ও তার ভগ্নিপতি কে গ্রাম পুলিশ মারফত ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান।
এরপর ঐ ৭ নং চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম মনি প্রথমে ঘটনাটি কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমানকে মুঠো ফোনে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষনিক ভাবে মেডিকেল অফিসার আসিফ ইকবাল সহ ০৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দেন। এরপর ঐ ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাটি মুঠো ফোনের মাধ্যমে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী জেরিন কান্তা’কে জানালে তিনি ঐ চেয়ারম্যানকে বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেন।
কিন্তু ঘটনার ১ সপ্তাহ পার হলেও কোনো মামলা তো দূরের কথা কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি ও করেনি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম মনি বলে জানিয়েছেন কলারোয়া থানা সূত্র। কারন অদৃশ্য!

স্থানীয় একজন সংবাদ কর্মীকেও এ ব্যাপারে হুমকি দিয়েছেন ঐ ইউপি চেয়ারম্যান । ঐ সংবাদ কর্মী জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বার্থে আমি সরকারি ঔষধ আত্মসাতের সংবাদ প্রকাশ করেছি। এতে ঐ চেয়ারম্যান আমাকে প্রকাশ্যে কটুবাক্য সহ দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছে । যার প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে।
এ দিকে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরেও সরকারি ঔষধ আত্মসাত ঘটনায় চেয়ারম্যান কেন কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন না তা প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন জনসাধারণ ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বয়ারডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ইমাম হোসেন বলেন,সরকারি ঔষধ সহ হাতেনাতে ধরা পড়ার সময় আমি এলাকায় ছিলাম না,আমাকে কেউ জানায়নি।ঘটনাটি আমি পরে জানতে পেরেছি। এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জানিয়েছি ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ০৭ নং চন্দনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, ঐ ঔষধ আত্মসাতের ঘটনায় কতৃপক্ষ আমাকে আর কিছু জানায়নি।এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হয়েছে কি না,এমন প্রশ্নে তিনি বলেন স্থানীয় যারা সরকারি চুরিকৃত ঔষধ হাতেনাতে আটক করেছে তারা বাদী হয়ে অভিযোগ করতে রাজি না।আমরা তো ঐ ঔষধ ধরিনি ধরছে পাবলিকে। চেয়ারম্যানকে নিজে বাদী হয়ে অভিযোগ করার নির্দেশের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যারা ঔষধ আত্মসাতের সময় হাতেনাতে ধরেছে তারা বাদী না হলে আমি হবো কেন? আমি বাদী হব না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, আমি বিষয়টি জেনে একজন মেডিকেল অফিসার সহ ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি । রিপোর্ট হাতে পেয়ে উর্ধোতন কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছি।
প্রসঙ্গত: গত ০৮ আগস্ট শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সরকারি ঔষধ আত্মসাত করে সরিয়ে ফেলার সময় জনতার হাতে ধরা পড়েন কলারোয়ার ০৭ নং চন্দনপুর ইউনিয়নে বয়ারডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আব্দুল আলিম ও তার ভগ্নিপতি ।
এ দিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণ ও তা আত্মসাতের ঘটনায় জড়িতদের তদন্ত পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন জনসাধারণ ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
টিভি চ্যানেল
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
matv2425802581