বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:২৯ অপরাহ্ন

*আত্মশুদ্ধি বনাম তাকওয়া * হাফেজ মাও : মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান! ? Matrijagat TV

আতিকুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট টাইম রবিবার, ১০ মে, ২০২০

আল্লাহ তায়ালা একটি মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আমাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। যাতে আমরা ইউসুফ আঃ এর তাকওয়া অর্জন করতে পারি,আম্বিয়াদের তাকওয়া অর্জন করতে পারি। ইউসুফ আঃ এর তাকওয়ার সেই বিখ্যাত ঘটনা আমরা সকলেই জানি যে, আল্লাহ তাকে মর্যাদা দান করেছেন, নবুওয়ত দান করেছেন ভাইদের শত হিংসা, আঘাত,অন্ধকার গর্তে নিক্ষেপ সহ সব প্রতিকুলতা ডিঙিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন সকলের নয়ন মণি, ক্ষমতার উচ্চ আসনে সমাসীন।ইউসুফ আঃ এর ভাইয়েরা তাকে হত্যা করতে চেয়েছে। তাঁর বাবা তাকে কেন সবচেয়ে বেশী আদর করে সে জন্য তাকে চিরতরে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অন্ধকারকূপ থেকে তাকে উদ্ধার করে বিশাল এক রাষ্ট্রের পরিচালনার দায়িত্ব দান করেছেন। “কেন দান করেছিলেন? কেননা ইউসুফ আঃ আল্লাহ সুবহানাহু র তাকওয়ার পরীক্ষায় উত্তির্ন হয়ে ছিলেন, সেই তাকওয়া কি ছিল? যে সম্রাটের বাড়িতে তিনি আশ্রয় পেয়েছিলেন, তার সুন্দরী রমনী ইউসুফ আঃ এর প্রতি ছিল আসক্ত, তাকে নিজস্ব করে পেতে চেয়েছিল। একান্তভাবে তাকে পাওয়ার জন্য নারী সূলভ যত রকমের ছলনা করা দরকার সবই করেছিল, তার সৌন্দর্য, সামাজিক মর্যাদা, বিশাল রাজ প্রাসাদ, সব কিছুই ইউসুফ আঃ এর জন্য সে খুলে দিয়েছিল।নীরব একটি কক্ষে তাকে নিয়ে যায় সম্রাটের স্রী, অনেক দিনের সাধনা ইউসুফ আঃ কে সে নিজের করে পাবে। ইউসুফ আঃ ছিলেন টগবগে যুবক। শারীরিক কোন অক্ষমতা নেই, সৌন্দর্যের কোন অভাব নেই, টগবগে এই যুবককে ছলনাময়ী নারী অশ্লীল কাজের জন্য ডাকছে, যুবক হিসেবে, যৌবনের চাহিদা হিসেবে তিনি তার ডাকে সাড়া দিতে চান, শরীর বলছে সাড়া দাও।ঠিক তখনই তাঁর অন্তরে যে তাকওয়ার অলংকার ছিল তা জ্বলে উঠলো, বল্ লো হে ইউসুফ তুমি এই নারীর ডাকে সাড়া দিবে? দুনিয়ার কোনো মানুষ না দেখলেও ঐ সত্তা যিনি তোমাকে অন্ধকার কূপ থেকে বাচিঁয়েছেন সেই মালিক তো তোমাকে দেখছেন। যখন তাঁর তাকওয়ার চেতনা তীব্র হয়ে জাগ্রত হল তখন তিনি আল্লাহর ভয়ে পালাতে লাগলেন। শারীরিক চাহিদাকে উপেক্ষা করে, যৌবনকে লাথি দিয়েছেন শুধু আল্লাহকে রাজি করার জন্য। জুলাঈখার সব ফন্দি থেকে ইউসুফ আঃ তাঁর ঈমান কে, তাকওয়াকে রক্ষা করলেন। আল্লাহ সুবহানাহু তাকে সহজ করে দিয়েছেন কেননা তিনি পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন “ঈমান বাঁচানোর জন্য কেউ যদি চেষ্টা করে তখন তার জন্য পালানোর পথ আমি নিজেই করে দিব।ইউসুফ আঃ আল্লাহকে যে ভয় করেছেন এটাকেই বলা হয় তাকওয়া। হযরত উমর রাঃ উবাই রাঃ কে জিজ্ঞেস করলেন তাকওয়া কি? তদুত্তরে তিনি বল্লেন তুমি এমন কোন পথ দিয়ে হেঁটেছ, যার চতুর্দিকে কাঁটা আর কাঁটা, পাহাড়ের মাঝখানে একটি সরু রাস্তা? উমর রাঃ বলেন হ্যাঁ এরকম রাস্তা দিয়ে আমি হেঁটেছি।কি ভাবে হেঁটেছ?উমর রাঃ বললেন অত্যন্ত সতর্ক, আমার কাপড়কে গুছিয়ে নিয়েছি, যাতে আমার আশে পাশের কাঁটা না লেগে যায়।আমি সামনের দিকে খুবই সতর্ক হলাম যেন আমার পায়ের মধ্যে কোন কাঁটা বিঁধে না যায় খুবই সতর্ক হয়ে আমি রাস্তা হেঁটেছি। উবাই রাঃ বল্লেন এটাই হচ্ছে তাকওয়া। যে দুনিয়ার উপর তুমি বাস কর সেটাই হচ্ছে চিকন সরু একটি রাস্তা, চারদিকে কাঁটা,শিরকের কাঁটা, কুফরীর কাঁটা, সুদের কাঁটা, ঘুষের কাঁটা, যিনার কাঁটা।এত কাঁটার ভিতরে তোমাকে বাস করতে হবে, চাকরি, ব্যবসা বানিজ্য, সব কিছু করতে হবে, কণ্টকাকীর্ণ রাস্তায় তুমি যেমন সতর্ক অবস্থায় থাক,তোমার শরীরে যেন কাঁটা না বিদ্ধ হয়,ঠিক একই ভাবে তোমাকে দুনিয়াতে সতর্কাবস্থায় থাকতে হবে, এমন সতর্ক যাতে শিরক কুফরীর কাঁটা, সুদ ঘুষের কাঁটা যেন পায়ে না বিঁধে। এমন সতর্কাবস্থায় দুনিয়াতে বাস করতে হবে এটাই হল তাকওয়া। আপনি একজন ব্যবসায়ী, যদি ইচ্ছা করেন রমযানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য গুলো গুদামজাত করে লাখ লাখ টাকা কামাতে পারবেন। পেঁয়াজ, রসুন,আদা ইত্যাদি ষ্টক তথা আপনার সিন্ডিকেট বাজারের স্বাভাবিক সরবরাহকে বিঘ্নিত করে ফেলল, আপনার বিরাট সুযোগ একমাসে কোটিপতি হওয়ার, কিন্তু না কেননা আল্লাহর নবীর শিক্ষা হল গুদামজাত করা যাবে না যে করবে সে তাঁর উম্মত না, অন্য হাদিসে বলা হয়েছে গুদামজাত করলে দুটি বড় বিপদ আসে ১ দারিদ্র্য ২ জটিল রোগ। আপনি যদি এসব কাজ হতে আল্লাহ ও তাঁর নবীর ভয়ে বিরত থাকেন সেটাই হবে তাকওয়া এবং রমযানের প্রধান শিক্ষা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © Matrijagat TV
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
matv2425802581