রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৭:১৬ অপরাহ্ন

আজ ২৪ সেপ্টেম্বর এড. আব্দুর রহিমের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আজহারুল ইসলাম সাদী, স্টাফ রিপোর্টারঃ

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভাষা সৈনিক ও বিশিষ্ঠ রাজনীতিবীদ এডভোকেট আব্দুর রহিমের অষ্টম মৃত্যবার্ষিকী।
মৃত্যুর পূর্বমূহুর্ত পর্যন্ত তিনি সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি ছিলেন। দিবসটি উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে এক স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার বেলা ১০ টা ৩০ মিনিটের সময় শহরের কাছারিপাড়াস্থ সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে উক্ত স্মরণ সভায় সংশ্লিষ্ট সকলকে নিদিষ্ট সময়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য জেলা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়েছে।

এড. আব্দুর রহিম সাতক্ষীরা জেলার, দেবহাটা উপজেলার, সুশীলগাতী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত মফিজ উদ্দিন। স্থানীয় প্রাইমারি স্কুল থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে, দেবহাটার টাউনশ্রীপুর হাইস্কুল থেকে ১৯৫১ সালে ম্যাট্রিক পাশ করে, সাতক্ষীরা কলেজে ভর্তি হন। তিনি ১৯৫৬ সালে স্নাতক পাশ করেন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬০ সালে তৎকালিন সাতক্ষীরা কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি আইন পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন।

তিনি ১৯৫২ সালে সাতক্ষীরা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র হিসেবে ক্লাশ রিপ্রেজেনটেটিভ নির্বাচিত হন। এসময় রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলনে ঢাকায় ছাত্র জনতার উপর পুলিশের গুলি বর্ষণে হতাহতের ঘটনায় সাতক্ষীরাতেও মিছিল মিটিং সভা সমাবেশ হয়। সেসময় আরও কয়েকজন ছাত্রের সাথে তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তিতে তার নেতৃত্বে দেবহাটা কালিগঞ্জ এলাকায় সভা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এড. আব্দুর রহিম পরবর্তিতে ন্যাপের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন এবং স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে তৎকালিন মহাকুমা ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি কমপক্ষে ১০ বার মহাকুমা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। জাতীয় পার্টি গঠিত হওয়ার পর এড. আব্দুর রহিম জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাতক্ষীরা জেলা ভূমিহীন সমিতির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৮ সালে সাতক্ষীরার দেবহাটা কালিগঞ্জে ৯টি তথাকথিত জলমহলের খাস জমিতে, বসবাসরত সহস্রাধিক ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হলে, এড. আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে দেবহাটা কালিগঞ্জ ভূমিহীন উচ্ছেদ প্রতিরোধ সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। সাতক্ষীরার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন আইনজীবী শিক্ষক সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটির তিনি আহবায়ক ছিলেন।

তার নেতৃত্বে ভূমিহীন উচ্ছেদের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গণবিস্ফোরণে পরিণত হয়। পরবর্তিতে তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতাসহ দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সাতক্ষীরাতে আসেন এবং ভূমিহীনদের দাবি দাওয়ার প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেন।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভূমিহীনদের খাসজমিতে অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ উচ্ছেদের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় এড. আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে বন্যার পানি নিষ্কাশন আন্দোলন গড়ে ওঠে। পরবর্তিতে তিনি খুলনা যশোর সাতক্ষীরা এলাকায় ভূমি আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন।

তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তার নেতৃত্বে সাতক্ষীরা জেলার উন্নয়ন ও অধিকার ভিত্তিক নানা আন্দোলন গড়ে উঠে। তিনি সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাতক্ষীরা জেলার এই বিশিষ্ট রাজনৈতিক মহামনিষীর অষ্টম মৃত্যু বার্ষিকীতে সাতক্ষীরাবাসী তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে শ্রদ্ধার সাথে দিনটি পালন করছে।

সংক্ষিপ্ত জীবনী: এড. আব্দুর রহিম দেবহাটার সুশীলগাতী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত মফিজ উদ্দিন। স্থানীয় প্রাইমারি স্কুল থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। দেবহাটার টাউনশ্রীপুর হাইস্কুল থেকে তিনি ১৯৫১ সালে ম্যাট্রিক পাশ করে সাতক্ষীরা কলেজে ভর্তি হন। তিনি ১৯৫৬ সালে স্নাতক পাশ করেন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬০ সালে তৎকালিন সাতক্ষীরা কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি আইন পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন।

তিনি ১৯৫২ সালে সাতক্ষীরা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র হিসেবে ক্লাশ রিপ্রেজেনটেটিভ নির্বাচিত হন। এসময় রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলনে ঢাকায় ছাত্র জনতার উপর পুলিশের গুলি বর্ষণে হতাহতের ঘটনায় সাতক্ষীরাতেও মিছিল মিটিং সভা সমাবেশ হয়। সেসময় আরও কয়েকজন ছাত্রের সাথে তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তিতে তার নেতৃত্বে দেবহাটা কালিগঞ্জ এলাকায় সভা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এড. আব্দুর রহিম পরবর্তিতে ন্যাপের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন এবং স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে তৎকালিন মহাকুমা ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি কমপক্ষে ১০ বার মহাকুমা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। জাতীয় পার্টি গঠিত হওয়ার পর এড. আব্দুর রহিম জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাতক্ষীরা জেলা ভূমিহীন সমিতির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
টিভি চ্যানেল
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
matv2425802581